জীবন বৃত্তান্ত

পারিবারিক ও শিক্ষা জীবন

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৯৫৯ সালের ৮ জানুয়ারী খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার শিরোমণি গ্রামের এক  সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। পারিবারিক জীবনে তার পিতা-মাতা, ৫ ভাই, ৫ বোন, স্ত্রী, ২ কন্যা ও ২ পুত্রসন্তান রয়েছে। শিরোমণি হাইস্কুল, বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আযম খান বাণিজ্য বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে যথাক্রমে এসএসসি, এইচএসসি, বিকম অর্নাসসহ (হিসাব বিজ্ঞান) এম কম পাস করেন।

ছাত্র রাজনীতি

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে জড়িত। ১৯৭৪ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৭৫ সালের শেষার্ধে ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত পেয়ে তিনি ইসলামী আদর্শভিত্তিক ছাত্ররাজনীতিতে শরীক হন। প্রতিষ্ঠালগ্ন হতেই বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত হন এবং তিনি বিভিন্ন মেয়াদে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ফুলতলা থানা সভাপতি, খুলনা সদর থানা সভাপতি, বিএল কলেজ সভাপতি, কমার্স কলেজ সভাপতি এবং ১৯৮৪-৮৫ সেশনে খুলনা মহানগরীর সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বক্তৃতা, বিতর্ক, প্রবন্ধ, পত্র-পত্রিকা সম্পাদনা ও লেখালেখির কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। এ সকল ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখার কারণে তিনি বিভিন্ন পুরস্কার লাভ করেন। তার গবেষণা ও বিশ্লেষণধর্মী জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের একাধিক পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়। বিভিন্ন বিষয়ে তার লেখা ৬টি গ্রস্থ রয়েছে। কয়েকটি প্রকাশের পথে।

রাজনীতি ও কর্মজীবন

ছাত্রজীবন শেষ করে তিনি সাংবাদিকতা ও অধ্যাপনা পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। দৈনিক সংগ্রামের খুলনা প্রতিনিধি হিসেবে তিনি কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় খুলনা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সর্বাধিক ভোট পেয়ে তিনি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। দুই বছর কাল তিনি খুলনা ইসলামিয়া কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ছাত্রজীবন শেষ করেই তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

১৯৯৬-২০১১ সাল পর্যন্ত খুলনা মহানগরীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন। ১৯৯৪ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে ব্যাপক পরিচিতি ও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

১৯৯৬-২০০১ এ আওয়ামী দু:শাসন বিরোধী আন্দোলনের গঠিত খুলনা জেলা ও মহানগরী চার দলীয় জোটের তিনি অন্যতম কো-কনভেনর ছিলেন। ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১ লাখ ৬ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) নির্বাহী এলাকা থেকে।

প্রস্তাবিত নতুন শ্রম আইন লেবারকোড’ ১৯৯৪ এর শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ধারাসমূহ বাতিলের দাবিতে জাতীয়ভাবে গঠিত ‘ লেবার কোড’ ৯৪ প্রতিরোধ জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র খুলনা যশোর অঞ্চলের তিনি প্রথম উদ্যোক্ত ও আহ্বায়ক ছিলেন।

সামাজিক কার্যক্রম ও শিক্ষা প্রসারে নেতৃত্ব

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নিন্মোক্ত সামজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১। উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি-শিরোমণি ইসলামী পাঠাগার।

২। প্রধান উপদেষ্টা-শহীদ মুন্সী আব্দুল হালিম স্মৃতি সংসদ, ফুলতলা।

৩। প্রধান উপদেষ্টা-শহীদ শেখ বেলাল উদ্দীন ফাউন্ডেশন, রায়েরমহল, খুলনা।

৪। প্রধান উপদেষ্টা-সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, খালিশপুর, খুলনা।

৫। প্রধান উপদেষ্টা-খুলনা সংস্কৃতি কেন্দ্র, খুলনা।

৬। চেয়ারম্যান-খুলনা শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট।

৭। চেয়ারম্যান- আল ফারুক সোসাইটি, খুলনা।

৮। সভাপতি-শিরোমণি হাফিজিয়া মাদরাসা, এতিমখানা ও সরকারী শিশুসদন।

৯। সভাপতি-ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ, খুলনা।

১০। সাবেক সদস্য- দৌলতপুর কলেজ (দিবা/নৈশ) পরিচালক পরিষদ।

১১। সাবেক সভাপতি- খানজাহান আলী আদর্শ মহাবিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ, শিরোমণি, খুলনা।

১২। সাবেক সভাপতি, ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ।

১৩। সাবেক সভাপতি-পল্লশ্রী মহাবিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ।

১৪। সাবেক সভাপতি-চুকনগর মডেল মহিলা কলেজ, ডুমুরিয়া।

১৫। সাবেক সভাপতি- বান্দা কলেজিয়েট স্কুল, ডুমুরিয়া।

১৬। সাবেক সভাপতি-শোভন বিরাজময়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডুমুরিয়া।

১৭। সাবেক সভাপতি- আল ফারুক দাখিল মাদ্রাসা, খুলনা।

১৮। সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান- অগডঅই (এসোসিয়েশন অব মুসলিম ওয়েলফেয়ার এজেন্সীস ইন বাংলাদেশ), ঢাকা।

অষ্টম জাতীয় সংসদের বিভিন্ন কমিটিতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার

১.  সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

২.  সরকারী প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য।

৩.  সদস্য- BANGLADESH AGRICULTURAL RESEARCH COUNCIL (BARC)  বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (মাননীয় স্পিকার কর্তৃক সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত দুই সদস্যের একজন)।

৪.  সদস্য-জাতীয় পানিসম্পদ পরিষদ (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রথম মনোনীত খুলনা বিভাগের একমাত্র সদস্য)

বিদেশ সফর

১.  অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০০২ সালের ১ মে থেকে ১৫ দিন জাপান সফর করেন। সেখানে তিনি ইসলামিক মিশন জাপানের সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। এ সময় তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিধ্বস্ত হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহর পরিদর্শন করেন।

২.  ২০০২ এর ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর তিনি থাইল্যান্ড সফর করেন। এ সময় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আয়োজিত দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ক এ সম্মেলনে তার বক্তব্যের বিষয় ছিল Macro Economics and  Health সামষ্টিক অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য’।

৩.  ২০০৩ সালের সরকারী হজ্ব প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি সৌদি আরব গমন করেন। ৩ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারী সফরকালে হজ্ব ব্যবস্থাপনা, তত্ত্বাবধান ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন করেন।

৪.  ২০০৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর সুইজারল্যান্ড সফর করেন। এ সময় জেনেভায় অনুষ্ঠিত Inter Parliamentary union এর ১১১ তম সম্মেলনে অংশ গ্রহন করেন। সম্মেলনে তার বক্তব্যের বিষয় ছিল The Role Of Parliaments In Presserving Biodiversity – জীব বৈচিত্র সংরক্ষণে সংসদ সমূহের ভূমিকা।

৫.  সালের অক্টোবর মাসে তিনি ব্রিটেন সফর করেন। এ সময় তিনি ইসলামিক ফোরাম অব ইউরোপ ২০০৪ আয়োজিত বিভিন্ন সেমিনার ও সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। তখন বৃটিশ পার্লামেন্ট, বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন।

৬.  তিনি ২০০৬ সালে ১৭ থেকে ১৯ জানুয়ারী ‘তৃতীয় ভারত-বাংলাদেশ যুব সংলাপ’ শীর্ষক সেমিনার বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তার বক্তব্যের বিষয় ছিল ‘আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা উদোগ: প্রেক্ষিত পররাষ্ট্রনীতি’ ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারের উপায়’।

৭.  তিনি Development of sound labour Relationship and mutual understanding এর উপর অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহন করেন এবং বক্তব্য রাখেন।

৮. তিনি ঢাকায় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন (CPA)  এবং ১৩তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগদান করেন।

৯.  ২০০৬ সালে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর তিনি পুনরায় সুইজারল্যান্ড সফর করেন। এ সময় তিনি জেনেভায় অনুষ্ঠিত Inter Parlimentary Union এর ১১৫ তম সম্মেলনে অংশ গ্রহন করেন।

জাতীয় সংসদে মিয়া গোলাম পরওয়ার এমপির বক্তব্যের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে উল্লেখ করা হল

১.  বিরোধী দলের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করে সংসদে যুক্তিপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

২.  বিল ডাকাতিয়া, বিল বাদুড়িয়া, বিল ঘোষড়া, বিল মধুগ্রাম, বিল বরুনা, বিল সালতিয়া, বিল ছবাড়িয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করে বক্তব্য রাখেন।

৩.  ডুমুরিয়া উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ বেডে উন্নীত করার দাবি উত্থাপন করেন।

৪.  সাংবাদিক বেলাল হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি তোলেন।

৫.  হাকুমড়া ও ভদ্রা নদী খননের দাবি জানান।

৬.  খুলনায় গ্যাস লাইন স্থাপন, মোংলা বন্দর উন্নয়ন, বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠা, মাওয়া পয়েন্টে সেতু নির্মাণ, ওয়াসা এবং আকরাম পয়েন্টে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের দাবি তোলেন।

৭.  তিনি সংসদে ডুমুরিয়া ফুলতলায় ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার দাবি উত্থাপন করেন।

৮. বন্ধ হয়ে যাওয়া মহসিন জুটমিল চালু করার ন্যায়সঙ্গত দাবী উত্থাপন করে বক্তব্য রাখেন।

৯.  ডুমুরিয়া, ফুলতলার বিভিন্ন বিলের জলাবদ্ধতা দূর ও আঁকড়া, চানগড়, জালিয়াখালীর নদীভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী তোলেন।

১০. এনজিওদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সরকারী নীতিমালা বহির্র্ভূত কার্যকলাপ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী তোলেন।

১১. দেশের ট্যানারি শিল্পকে কোয়ালিটি সম্পন্ন করা ও বিদেশী বাজারে প্রবেশ করা এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে লজিষ্টিক সাপোর্ট ও মনিটরিং করার দাবি তোলেন।

১২. ফুলতলা উপজেলার বর্ধিত খাজনা হ্রাস ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন সিলিং নির্ধারণের দাবী জানান।

১৩. রূপসা সেতুতে রেল লাইন স্থাপনের দাবি তোলেন।

১৪. খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ৮টি পাটকল চালুসহ শ্রমিক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন ভাতা প্রদান ও তাদের মানবেতর জীবনযাপন পরিস্থিতি তুলে ধরে ৭১ বিধিতে পাটমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।